Tuesday, August 4, 2015

biodata


কবি পরিচিতি

পীযূষকান্তি বিশ্বাস দিল্লির বাঙালী কবি । জন্ম ১৯৭৫, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ , ভারত । স্কুল জীবনে লেখালেখি করলেও সেই কাজ সংগ্রহ করা নেই ।স্কুল শেষ হতে না হতেই ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন । সেই সময়কার কিছু কবিতা পাওয়া যায় যেগুলো তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে পোস্টিং
থাকাকালীন লিখেছিলেন । ১৯৯৮ সালে তিনি দিল্লিতে পোস্টিং নিয়ে আসেন এবং কার্গিল যুদ্ধে তিনি বিমানবাহিনীতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন । আর্মি জীবনের কিছু অলেখা কথা তার কবিতায় বিশেষ ভাবে স্থান পায় । তখন দিল্লি থেকে প্রকাশিত 'কথাঞ্জলী' প্রত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন । ২০০৫ সালে কদম বদল । বিমানবাহিনী ছেড়ে দিয়ে সফটওয়ার ইঞ্জিনীয়ার হিসাবে মাল্টিন্যাশনালে যোগদান করেন । নিয়মিত লেখালেখি ২০১০ এর পরেই ।  ২০১৪ এ তার প্রথম কবিতার বই  'ঘুমঘর'  দিল্লির বইমেলায় দূরত্ব পাব্লিকেশ থেকে প্রকাশিত হয় । বইটি কবিবন্ধুদের মধ্যে বিশেষ ভাবে প্রশংসিত হয় । তার দ্বিতীয় বইটি 'আকাশ চুম্বন' ২০১৫ কলকাতা বইমেলায় অভিযান পাব্লিশার্স থেকে বের হয় । এ ছাড়া 'বাঁধা নয় রক্ত' একটি বই 'ই-বুক' হিসাবে পাওয়া যায় । বর্তমানে দিল্লি থেকে প্রকাশিত দিগঙ্গন পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীতে আছেন ।




Wednesday, January 7, 2015

ভূমিকা

সকলে কবি নয়, কেউ কেউ কবি, কথাটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য । পাঠকবন্ধুরা সকলেই তাঁদের উপলব্ধির ভিত্তিতে বিচার করেন কোন কবিতা গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়! কোন কবিতাটি তাৎপর্য্যপূর্ণ কিংবা কোনটি ছন্দানুসারী; আবার কোনটি অর্থহীন কিছু কথার সমষ্টি মাত্র । আসলে বিশ্বব্রম্মান্ডের দেখা অদেখা সমস্ত বিষয়বস্তু কবির হৃদয়কে স্পর্শ করে ভাবনার আলোড়ন তুলতে পারে এবং নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য উৎসাহিত করতে পারে ।
তাই বলা যায় কবির মনোজগৎ এক উন্মুক্ত বাতায়ন আর তাঁর মধুময় কলমের স্পর্শে পাঠকমহলে সৃষ্টি হয় এক স্বপ্নময় অনুভূতি । যে কবির পাঠকমনে যত বেশী ব্যাপ্তি  কালের বিচারে তার বিস্তারও তত বেশী । তাই আমরা নিয়ত পরিচিত হই নতুন নতুন লেখকবন্ধুদের সঙ্গে যারা তাঁদের স্বপ্ন কাজলে এঁকে দেন আমাদের হৃদ্দেশে নতুন এক সৌভিক অনুভূতি ।
তেমনই এক তরুন কবিকে আমরা পেয়েছি যিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন । তিনি নিয়ে এসেছেন তাঁর সামরিক অভিজ্ঞতার ডালি এই কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে । গ্রন্থকার শ্রী পীযূষকান্তি বিশ্বাস এর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রামে । পিতা স্বর্গত শ্রী জ্ঞানেন্দ্রনাথ বিশ্বাস অবসর সময়ে ভক্তিগীতি রচনা ও পরিবেশনা করতেন । আর অগ্রজ শ্রী পলাশকান্তি বিশ্বাস একজন সুপরিচিত কবি ও সাহিত্য বোদ্ধা । এই পারিবারিক পরিমন্ডল একদিকে আর অন্যদিকে সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা পীযূষকান্তিকে কবিতা রচনায় সতত উদ্দীপিত করেছে; সেই সঙ্গে বাংলার কাব্য ভান্ডারে যুক্ত করেছে বেশ কিছু যুদ্ধ ভিত্তিক কবিতা এবং সেই সব সংগ্রামী জীবনের বিবিধ কাহিনী ও নিত্তদিনের অভিজ্ঞতা ।
তাই তাঁর 'জীবাশ্ম' কবিতায় পাই এক সৈনিক জীবনের উপলব্ধিঃ "বেয়নটের ফলাকায় মাখানো অচেনা বিষ /ঘাড়ের পরে অহরহ বুলেটের নিঃশ্বাস /গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে আর ডি এক্সের ধোঁয়া বাঁচিয়ে /বাঁচিয়ে রেখেছি এই প্রেম /পথ চেয়ে বসে আছে বিবাহ বাসর ।" সৈনিক জীবনের অর্পিত কর্তব্য বনাম হৃদয় উদ্বেলিত প্রেমের বাস্তব ছবি আমরা দেখতে পাই কবির অনেক কবিতার ছত্রে ছত্রে; যেমন "বিকানীরের বৈকালে বিশাল দিগন্তে ক্লান্ত নোন্তা ঘাম লু হাওয়া লুটে খায়/ তোমাকে আমার তখন মনে পড়ে অসীমা, অ্যাংকলেট বুটপায়ে নেমে পড়ি রাস্তায়..." ( বিকানীরের সূর্যাস্ত )। "মিগ টোয়েন্টি ওয়ান" কবিতায় কবির বিদ্রোহী মন তুলে ধরেছে এক চিন্তনীয় প্রশ্নঃ " আমি বড় হয়রান মৌসুমি , কিংকর্তব্যবিমুঢ় / কিসের যুদ্ধ এ ? / কাদের লড়াই / নিজেরই বুকে ক্ষত নিয়ে কৃত্রিম সীমানার বড়াই ?"

জীবনে অনেক সময়ে আমাদের পরিশ্রম অর্থহীন হয়ে পড়ে, যদিও পরিশ্রম এক নিত্যনৈমিত্তিক জীবনধর্ম । কর্মক্ষেত্রে বা সংসার জীবনে বিনা পরিশ্রমে ফল মেলে না, এ কথা জানা সত্বেও পরিশ্রমী জীবনকে বেছে নিই । কবিও নিয়েছেন, কিন্তু তবুও দেখি কখনো কখনো হতাশা তাঁর হৃদয়কে স্পর্শ করে গেছে , যখন দেখি তিনি


লিখেছেন , "গর্দনটা নিচে ঝুঁকিয়ে দেখলে মাটি দেখা যায় / যেখানে ঝরে পড়ছে প্রতিদিন / পরাজিত ঘাম " (ঘুমের দেশে) , এ এক অদ্ভুত বাস্তব অনুভূতির স্পর্শ ।
বিশ্বজুড়ে আমরা যে সংগ্রামের ছবি নিত্য দেখি তা এক মানব জীবনের বেদনাভরা আলাপন । দেশে দেশে মানুষে মানুষে সখ্যতার অভাব এবং ক্ষমতার আস্ফালন ও বৈরী মনোভাব পারিপার্শ্বিক আবহাওয়াকে বিষিয়ে তুলেছে। তার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলো জীবন ও সম্পদের অবক্ষয় । ফলতঃ দেশের ভিতরে বাইরে নানা কারণে নিয়ত দ্বন্দের সৃষ্টি । কবি শ্রী পীযূষকান্তি  পাঠক বন্ধুদের সামনে এক মুল্যবান প্রশ্ন তুলে ধরেছেন তাঁর "জলজ শ্যাওলা" কবিতায়..."ভু-ফোঁড়ে জনকের /প্রতিনিয়ত এই রকম শহীদ প্রসব / হা ঈশ্বর, / কে নিয়ে আসে এদের সংগ্রামী মৃত্যু ?..." এক চিরন্তন জিজ্ঞাসা যার উত্তর হয়ত মানুষের আজও অজানা তাই তা তিনি ঈশ্বরের কাছেই তুলে ধরেছেন ।
কবিতা নিয়ে বিশেষ পরীক্ষা - নিরীক্ষার শুরু রবীন্দ্র পর্বের শেষ দিক থেকে যখন কিছু নতুন কবি তাঁর অসাধারণ কবিত্ব প্রতিভার প্রতি অঙ্গুলিসংকেতের মাধ্যমে নিজেদের গুনবত্বা কে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট হইয়েছিলেন; এবং তা প্রথম মহাযুদ্ধের সময় থেকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকাল পর্য্যন্ত খুবই প্রকট হয়ে উঠেছিল । ভিক্টোরিয় যুগের ইংরেজী কবি জিরার্ড ম্যানলে হপকিন্স সনাতন চিন্তাধারার অবসান ঘটিয়ে নিয়ে আসলেন আধুনিক ভাবধারা । তাঁকে অনুসরণ করে এগিয়ে এসেছিলেন মহিলা কবি এমি লাওয়েল এবং আরও অনেকে । ইংল্যান্ডে জন্ম নিলো 'ইমাজিস্ট' গ্রুপ । বাংলা সাহিত্যেও অনুরূপ চিত্রের প্রতিফলন দেখতে পাই এবং সে যুগের বহু নামী-দামী কবিকে আমরা পেয়েছি আধুনিক কবিতার শ্রষ্টা হিসাবে । তাঁরা  বাংলা কাব্য জগতে রবীন্দ্রধারাকে অগ্রাহ্য করে নতুনত্বের সন্ধানে ব্রতী হওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিলো একথা যেমন সত্যি, তেমনি পাঠক পেয়েছিলো  নতুনত্বের আস্বাদন -  ছন্দে, বিষয়বস্তুতে, ভাষায় ও প্রকাশভঙ্গীতে । বর্তমান কাব্যগ্রন্থে শ্রী পীযূষকান্তি বিশ্বাস সেই নতুনত্বের ডালি আমাদের উপহার দিয়েছেন যা পাঠকমনে এক অভিনব ছাপ রেখে যাবে বলে বিশ্বাস করি ; বিশেষ করে সমগ্র গ্রন্থটি হয়ে উঠেছে সামরিক জীবনের এক বাস্তবানুভূতি ও তার মুল্যবান চিত্রকল্প ।
আনুমানিক ২০০২ সালে যখন শ্রী পীযূষকান্তি প্রথমবার আমার সঙ্গে আলাপ করতে এসেছিলেন । তখন তাঁর কয়েকটি কবিতার মাধ্যমে তাঁর কাব্য প্রতিভার পরিচয় আমি পেয়েছিলাম । প্রতিভার মুকুলটি যাতে তার বিশেষত্ব বজায় রেখে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে সে জন্য নিয়ত তাঁকে উৎসাহিত করে এসেছি । আস সে পুষ্পবৃক্ষ আপন মাধুর্যে বিদ্যমান ।
তাই গ্রন্থকার শ্রী পীযূষকান্তি বিশ্বাসকে জানাই সুদীর্ঘ ও সাফল্যময় কাব্যজীবনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ।

                                                                          
২ জানুয়ারী ২০১৫                                     দিলীপকুমার বন্দোপাধ্যায়

নতুন দিল্লি                                     (প্রাক্তন প্রধান সম্পাদকঃ কথাঞ্জলী)

Saturday, August 23, 2014

কৈফিয়ৎ

কৈফিয়ৎ

এরকম একটা বই করব , কোনদিনই ভাবিনি । এই লেখাগুলো নিয়ে কি করব সে রকম কোন পরিকল্পনাও ছিলো না । লিখেছি, শুধুই একান্তে; নিজেই ছিলাম তার নিজস্ব সীমানা ; সেগুলো প্রকৃতপক্ষে উপযুক্ত লেখা হয়ে উঠবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম আর হাতও বাঁধা ছিলো, কারণ সরকারের কাছে মাথা ছিলো বাঁধা,  কোন লেখা ছাপতে দিতে পারতাম না । মূলতঃ তখন ছিলাম বাংলা থেকে অনেক যোজন দূরে, যেখানে সাহিত্য পৌঁছোতে আলোকবর্ষ নিয়ে নিতে পারে ।

আমি তখন সাহিত্যবর্জিত যুদ্ধক্ষত্রে নিজেকে কম্বাট্যান্ট প্রমাণ করার জন্য অন্যান্য ভাষাভাষীদের সাথে কদমে কদম মিলিয়ে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে প্যারেডের টার্নআউট করছি । আর ডিফেন্সে কাজ করার জন্য একটা রুল সব সময় মানতে হয়েছে কাজ করে তা হলো - হেডকোয়ার্টার কে না জানিয়ে কেউ প্রিন্ট মিডিয়াতে কিছু লিখতে পারবে না । সুতরাং কলমে তালা লাগিয়ে এটিসির টাওয়ারে পেন্সিল ঘষাঘষি করছি ।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই পথের ঢেলা পায়ে ঠেলে লেফট রাইট সতীর্থ দের সাথে মার্চ করে চলেছি, তাঁদের কেউ আজ অবসরে গেছেন, কেউ কেউ বা শহীদ হয়েছেন । সেই রাত্রিব্যাপী গার্ড ডিউটি, সেই যুদ্ধক্ষেত্রে গোলাবারুদ , প্যারেড গ্রাউণ্ডে বোম্ব ব্লাস্ট - এসবই ছিলো ঘটনাবহুল দিনলিপি যা এখনো তাজা স্মৃতি, লিখতে গেলে সম্পূর্ণ ফায়ারিং রেঞ্জ জুড়ে ভরে যেতে পারে লাল অক্ষর । সুযোগ হয়নি কিংবা হ্য়ত আইনের বাঁধা হাতে কলমও বাঁধা পড়েছিলো । এক দুবার নিজেরই বিরুদ্ধে এই বায়ুসৈনিক বিদ্রোহ করেনি তা নয়, যুদ্ধক্ষেত্রের লগ বুকে  এঁকেবেঁকে লিখেগেছি আবেগের গল্পকথা, হৃদয়ের গভীরের আওয়াজ ছবির মত ধরে রেখেছি ডায়েরীর পাতায় । মনে হয়েছে কেন এই যুদ্ধ ? কেন এই যুদ্ধের জন্য ওঁত পেতে থাকা ? বার বার মনে হয়েছে সভ্যতার এ কোন দিক দর্শন ?  বরং মনে হয়েছে ফিরে যাই চূর্ণির পারে যেখানে আমার কৃষক পিতা ছোট্ট পরিসরে ধানের জমিতে সবুজের ঘ্রাণ নিত । মনে হয়েছে বার বার ফিরে যাই সেই ধানক্ষেতের মাঝে যেখানে দেশের কোন সীমানা নিয়ে উতকন্ঠা নেই, নেই গোলাবারুদের কোন রাজনীতি, নিজের ভাব প্রকাশে বা কবিতা ছাপতে কোন মিলিটারী আইন কলমকে আটকে রাখে না ।

সেই স্বাধীনতার জন্যই হোক আর সার্বভৌমিকতা রক্ষার জন্যই হোক, সেনাবাহিনীতে সৈনিককে অধীন হয়ে থাকতে হয় কঠিন নিয়মানুবর্তিতার , সমস্ত দেশকে স্বাধীন রাখতে গিয়ে এক সৈনিককে উর্দির আবরনে বন্দী হয়ে থাকতে হয় সারা বছর । দেশবাসীর চোখে নিশ্চিন্ত ঘুম আনার জন্য সীমানায় সীমানায় সৈনিক ঘাম ঝরিয়ে যায়, নিজের ইচ্ছা, ভালোলাগা গার্ডরুমের পিছনে গচ্ছিত রাখতে হয় । এই সব অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা আমাকে দু এক লাইন লেখার জন্য বহুদূর টেনে নিয়ে গেছে, তবু আমি সেই সব লেখালেখি বাক্সবন্দীই রেখে গেছি, আজ কয়েক দশক অতিক্রান্ত হলো, পুরানো ডায়েরীর ছেঁড়া পাতাগুলি হাতড়ালে আমি আবার সেই সব অভিজ্ঞতাগুলির মুখোমুখী হই, সেই সব ছেঁড়া ছেঁড়া পাতা আমি সুতোয় গাঁথি, কিছু কিছু লাইন নাকি তার কবিতাও হয়ে যায় ।  এই সব জেনেছি যখন কিছু কিছু লেখা দিল্লির লিটল ম্যাগাজিন গুলো ছাপতে শুরু করে ।

এমনিতেই দিল্লিতে বাংলা কবিতার পাঠক সংখ্যা কম । একটি দুটি ছোট সাহিত্য সংস্থা পার্ট টাইম কবিদের নিয়ে আড্ডা বসায়, সেখানেই আমার কবিতার প্রথম প্রকাশ । অধিকাংশ লেখাগুলি তখনো বাক্স বন্দী । এরকমই কোন কোন আসরে যেতে যেতে হঠাৎই খেয়াল হলো, লেখাগুলি ডায়েরী থেকে এনে টাইপ করে ফেললে ভালো হয় এবং টাইপ হয়ে গেলে, অগুলো বিভিন্ন ওয়েব ম্যাগাজিনে ও ব্লগে দেওয়া যায় । ফেসবুকেও লেখাগুলি পোস্ট দিতে থাকি । বিংগো ! অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া । বাড়তে থাকে পাঠকের সংখ্যা, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য দেশ / প্রদেশ থেকে আসতে থাকে প্রতিক্রিয়া । সেই সাথে নিজেকে কবি কবি ভাবতে থাকি আমি আর কিছু কিছু নতুন লেখাও লিখতে থাকি । মূলতঃ এই সব লেখাগুলি আমার বায়ুসৈনিক কর্মকান্ড, মিলিটারী প্রোসিজিওর, প্যারেড, শুটিং রেঞ্জ, আর্মি যুবকদের ব্যর্থ প্রেম কাহিনী নিয়ে যা আমার নিজে দেখা অভিজ্ঞতা বা নিজের অনুভব করা চিত্রকল্প । কোন কোন কবি বন্ধু আমার এই লেখাগুলি পড়ে আমাকে যুদ্ধের কবি বলেও আখ্যা দিতে চাইলেন আর আমি অনুপ্রানিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার আমি আগুনের মধ্য দিয়ে যাব , যে ভাবেই হোক, একটা বই বের করব যেখানে সব কটি কবিতাই হবে আমার সেই বায়ুসেনিক জীবনের কুড়িয়ে নেওয়া দিনগুলিকে কেন্দ্র করে ।আর সেই মৃত ও জীবিত সৈনিকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার একটি ছোট্ট প্রয়াসও হবে ।

আমার এই কবিতাগুলি সত্যিই কবিতা কিনা তা পাঠক এবার মুল্যায়ন করবেন এটাই আমার বিশ্বাস এবং এই ধরনের লেখা পরবর্তিতে আরো লেখা যায় কিনা তারও একটা মতামত পাওয়া যেতে পারে বলে একটা আবেদন পাঠকের কাছে আমি রাখতেই পারি । বিশেষ ধন্যবাদ দেব তাঁদেরকে যারা আমাকে এই বইটি করার জন্য উৎসাহ জুগিয়ে এসেছেন । আমার অগ্রজ শ্রী পলাশকান্তি বিশ্বাসও আমাকে সাহস জুগিয়ে এসেছেন এবং তাঁর সহযোগীতায় কলকাতার এক দুটি লিটল ম্যাগাজিনে আমার কবিতা ছেপেও বেরিয়েছে; কিন্তু আমি সেই অর্থে কবি হয়ে উঠিনি । আমাকে নিয়মিত কবিতা লেখার ভূমি প্রস্তুত করে দিয়েছেন "কথাঞ্জলি" পত্রিকার সম্পাদক শ্রী দিলীপ কুমার বন্দোপাধ্যায়, "প্রতিভা পথিকৃৎ" পত্রিকার সম্পাদক ও দিল্লির এক মাত্র বাংলা প্রকাশক শ্রী গোপাল চন্দ্র পাল । এছাড়া আরো অনেকেই আমাকে সাহায্য করেছেন এই বইটি প্রকাশ করার জন্য তাঁদের সবার নাম আমি এখানে উল্লেখ করতে পারলাম না বলে একটু খারাপও লাগছে । তবুও বলি, তাঁদের শুভেচ্ছা ও উৎসাহদানই আমার অনুপ্রেরণার উৎস । তাই সকলকে জানাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ।


মহাবীর এনক্লেভ                                                                পীযূষকান্তি বিশ্বাস
নিউ দিল্লি
৭ জানুয়ারী ২০১৫


 
   


Friday, August 8, 2014

হীরানগর রেঞ্জে

হীরানগর রেঞ্জে //পীযূষকান্তি বিশ্বাস

মার্চ পথে পড়েছিল এক দো এক
লেফট রাইট ঘুরপাকে
আবাউট টার্ন
বাতাসে বারুদের সিগনাল
এক পা দুপা এগিয়ে আসছিলো
শতছিদ্র পুড়ে যাওয়া টারগেট
ডিটেল ফায়ার !

আতিপাতি হাত পা ছুঁড়ে
সালফারডাই অক্সাইড সাঁতরিয়ে
বুকের গভীরে ডুব দিয়ে তুলে আনা  
হিম শীতল খনিজ অনুভুতি
অতল গভীরে তার লেয়ারে লেয়ারে স্থবীর
বুলেটের শায়িত মৃতদেহ

পিত্তল পিচ্ছিল শরীর, মেদময় শরীরের মত
বারুদ স্থগিত থাকে
ঢাকা দিয়ে রাখে হলুদবরণ ঘুম ...
যেখানে চাঁদমারি উস্কানি দেয় আর দাঁড়িয়ে ঠাই
এই হীরানগর রেঞ্জ
লাইন বাই লাইন
তুমি , আমি,  নায়েক শতীশ কুমার,
হাভিলদার গাইকোয়াড়

ট্রিগারে আঙুল
সন্ধ্যার বাতাসে বাদামী অক্সিজেন,
দিগন্তে চমক পাহাড়ের কোল ঘেসে  
একদল হরিণ ছুটে যায়
নাভির নিচে গনগনে আগুন সামলিয়ে একটানে
আগামী লোনাবালার নিঃশ্বাস বুকে টানি ...

এখানেই অরগাজম !
সুইটস্পটে পাঁচ পা রেখে
বালির বস্তার পাশে ম্যাগাজিন খালি করে

শুয়ে থাকে উত্তপ্ত ম্যাসিন গান ।

Thursday, August 7, 2014

ক্রিমেশন স্যালুট


ক্রিমেশন স্যালুট // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

দাঁড়িয়েছিলে খাঁড়া গম্বুজের মত,  
টিলার ওপারে ঠাই স্থির,
দুপায়ে নামিয়ে চোখ
অনেক ভিড়ের উপর
ভিড়টা তোমাকে দেখছিলো,
কিন্তু
ভিড়টা বোধহয় তোমার জন্য ছিলো না

শুধু মেঘ মুখী পতাকায় উড়ছিলো
স্বাধীনতার রং
প্রতিটা রক্তবিন্দু মুছে দিয়ে কার্গিলের প্রান্তর
সন্ধ্যা গোধুলি হতে চেয়েছিলে বুঝি

এই টিলার পাদদেশে দাঁড়ানো
নুড়ি পাথর ও বৈশাখী
তুমি হেঁটে আসো খাইবার পার হয়ে
তোমার প্রতিটা পদক্ষেপে
বিন্দু বিন্দু ডটে

মানচিত্র হেঁটে যায়,  
সীমানা এখানেই পড়ে থাকে,
মুখ থুবড়ে

তুমি তাই হাঁটুমুড়ে বসে পড়ো পরিখার পাশে
মাটির খুব কাছে
দুমড়ে মুচড়ে
ঘাস কামড়ে ধরো

ত্রিরঙ্গা ওড়ে,
বাতাসে মুক্তির সুবাস

'স্যালুট'

একটা কথাই আমার কলমে উচ্চারিত হয়,
এতটাই স্পষ্ট 
ঠিক যতটা আওয়াজে তুমি বুঝতে পারো
তোমার বুলেট ছিদ্র বুকের উপরে

আমরা ফুলের মালা রেখেছি ।