Thursday, January 16, 2014

গন্তব্য


দিনগুলি চলে যায়
খাঁচাগুলো খালি করে
দিনগুলো থেকে খাঁচাগুলির স্থায়ীত্ব নিয়ে কোলাহল

কাঁচা বাঁশেও ঘর থাকে না
বাসা খসে পড়ে
বাঁশ দাঁড়িয়ে থাকে
খসে পড়ার সাথে সাথে
দিনগুলি স্বর্ণময় হইয়ে ওঠে !

পতাকাগুলো উড়তে থাকে
বাঁশে জড়িয়ে থাকে রেশমী কাপড়
রং শুধু আলাদা হয় - ক্ষণস্থায়ী
রণাঙ্গন থেকে রনাঙ্গনে

তাই শেষ ইচ্ছা যদি

প্রস্তরীভূত হয়ে যাই কোন শহীদ মিনারে । 


০২ জানুয়ারী  ২০১৪
মহাবীর এনক্লেভ, নতুন দিল্লি

Tuesday, January 14, 2014

যুদ্ধের মহড়া

যুদ্ধের মহড়া


আমারও এক বক্ষ ছিল মৃত্যুঞ্জয়ী বারুদের এক নিরাপদ ঠিকানা
জীবন ঢেলে দিয়ে চেনাবের গিরিখাতে মরণপণ যুদ্ধের রক্ত স্রোতফেনা
পাহাড়ের খাদে খাদে জমে আছে সংগ্রামী সৈনিকের  লবনাক্ত ঘাম
সাইরেনের শব্দে পায়ে ফেলে পা, বর্ষার পিচ্ছিল পথে মার্চ বাম ডান বাম
অন্ধকার টাইগার হিল, মৎসের কনীনিকা লক্ষ্যভেদে তৈরী অর্জুনের তীর
সীমানার দেশরেখা টেনে ভূতলে নেমে আসে হিংস্র এক বিপক্ষ শিবির
পুড়িয়ে আসা পতাকা,পিছে ফেলে আসা ক্যাম্প, যুদ্ধক্ষেত্রের অমোঘ নিয়তি
বাঁ পাশে গহীন খাদ ,সামনে আঁধার , ডান পাশ দিয়ে ছুটে যাওয়া বুলেটের গতি
উরি ড্রাস কার্গিলের পর্ণমোচী আগুনের জমে যাওয়া চাংড়া বরফ
সিন্ধুর বুঁদবুঁদ স্রোতে ভেসে যাওয়া মাছেদের সেইসব নীল মৃত চোখ...

জীবন এখনো শ্রাবন, রাজপথে দেখি শহীদের মৃত ভাইদের প্রাণপনে লড়া
আজও টের পাই শিরায় শিরায় সেই রক্ত, পায়ে পায়ে সশস্ত্র যুদ্ধের মহড়া ।


০৬ জানুয়ারী  ২০১৪

মহাবীর এনক্লেভ, নতুন দিল্লি

Saturday, January 11, 2014

অওর !! য়্যাস হো রাহা হে ?

অওর !! য়্যাস হো রাহা হে ?


সবুজের মাঝখানে ফুলে ফুলে রং ছিল বেশী
মধু ছিল কম।

চিৎ হয়ে কান ধরে
জিভখানা উল্টে রেখে ঠোঁটে
লেফট রাইট, লেফট রাইট
নাইট রোলকলের শেষে
এক ফ্লাইট নপুংশক মৌমাছি
মার্চ করে ঢুকে গেল মুঘল গার্ডেনের গভীরে।

এই সব ইট চুন পাথর পচা পরিখায়,
ব্যাঙ্গমা আর ব্যাঙ্গমীরা
এখনো গভীর শীতের রাতের পূর্ণিমার চেরা চেরা আলোয়
আধো ঘুমে আধো স্বপ্নে
নাইট প্যাট্রোলে
কাঁপা কাঁপা গলায় ফিস ফিস আওয়াজে
প্রেমালাপ করে।

--“হল্ট, হ্যান্ডস আপ, কোন আতা হে ? পাসওয়ার্ড ? ”
--“মেজর গুলাব শিং......”
--“জয় হিন্দ স্যার”
--“অওর য়্যাস কর রাহা হে, ব্লাডি শোতা হে ?”

থ্রি নট থ্রি হাতে বেল্টধারী শান্ত্রি গ্রেফতার হয় 
রাত্রের নিস্তব্ধতার বজ্রকঠিন হাতে।

জানুয়ারীর শীতের কুয়াশার পর্দা সরিয়ে
শৃঙ্খলার শৃঙ্খলে
যখন রক্তলাল স্বপ্নাতুর চোখে ঘুম ভাঙে রাত্রির
বাউজারের ট্যাপনল থেকে টপ টপ পড়তে থাকে
ফোটা ফোটা রোদ্দুর ...

সবুজের মাঝখানে ফুলে ফুলে রং ছিল বেশী
মধু ছিল কম।




০২ মার্চ  ২০০০
সুব্রত পার্ক, নতুন দিল্লি

Saturday, December 28, 2013

আমার কৈফিয়ত 2

আমার কৈফিয়ত  // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

দু হাতে এত ডলেছি মাংস
দু পায়ে এত করেছি মার্চ
হিসাব মিলাতে গিয়ে দেখি, 
বে-হিসাব বাম ডান।

কি লিখব ভাষা জানিনা আর কায়দাটা ও শিখিনি
বেকায়দা ইচ্ছা টা তাই
বোঝানো মুস্কিল ।

কতদূর দিল্লি,
কেউ ডাক দিয়ে গেল সেই
চলেছি দুপায়ে নিয়ে মার্চ,
হোঁচটের পর হোঁচট
অস্ত্র ধরেছি হাতে, খেয়েছি গুলি ও,
বদহজমে দেখি
পেট গুলিয়ে যায় ।

এভাবেই খুঁজেছি ছাউনি থেকে ছাউনি
হয়রান ধুলো পথ,
রণক্ষেত্র জুড়ে আবেগী রক্ত-নদি
চেনাবের গিরিখাত ।

কখনো মাথায় ছুঁয়ে যায় রাডারের আন্টেনা
কখনো ছুঁয়ে যায় কামানের গোলা মাথার চুল
ছুঁয়ে যায় কবিতা ভাবনা ও
অসহায় পেন্সিল ।

মাঠে পড়ে ক্ষেত , সৈনিক শষ্য
মাঠে পড়ে সহস্রাধিক লাশ
মাঠ ঘুমায় বুকে শতশত ক্ষত নিয়ে
ট্রেঞ্চ ভর্তি ইতিহাস ।

উড়ছে ধুলোঝড় ট্যাক্সি ট্রাকে, রান-ওয়ে জুড়ে সাদা বক
উড়ছে সোনালি ডানার চিল , উড়ছে পত পত করে পতাকা,
জাতীয় সংগীত ।

এই বুঝি আকাশ ভেঙ্গে পড়ে, রাত্রি মুছে ফেলে ঘুমের ঘাম
পাছে চার্জসীট হয়ে যায়, ভয় হয় পেট বাঁচানো দায় ।

বলিদান আমার স্বাধীনতা ,
এমন ই অদ্ভুত উদ্ভিদ প্রেম
প্রান টা বিক্রি করে হাটে 
মনুষ্য জীবন কিনে খাই ।

গুনগুনায় বারুদের ধোঁয়া, গুনগুনায় কামানের ব্যারেল
মগজে ঢুকছে গরম সীসা,মগজে পিতল বারুদ ইচ্ছা
বাবাগো গেলুম ধর না কেউ, এ আবার বিকট যে ভীমরতি
বাবাকে ধরল চেপে উত্তপ্ত যৌনতা
কফিনে শুয়েও প্রেম ।

বসেছে বাপে সিংহাসনে, কি অদ্ভুত সাপের মাথায় তাজ
বসেছে পংগপালের ভীড়ে
পন্ডিত মহারাজ ।

এমনই রক্ত হল বিষ, ভয়ংকর ইগো বইছে খাদে
এমনই আগুন ভরা মাইন
রোমকুপে বিপাশা-সিন্ধু-শতদ্রু ।

এদিকে জ্বলন্ত হেলিপ্যাড, গুজনেক, অগ্নি,  চিতা
চেতকের স্কোয়াড্রন উয়িং
কি করি আমরা একলব্যর দল ?

পেছনে গুপ্তচর পড়ে আছে,
নিন্দুকের অভাব কোথায় নাই , পাছে লোকে কিছু কয়,
তবুও
পাছায় এয়ার ট্রাফিক ওয়েল ঘসে এয়ারম্যান দৌড়ায় ।

শিরায় শিরায় ঠাসা বারুদ, আগুনের নদি চুবিয়ে সুরায়
আমৃত্যু নেশার, এ কিসের লড়াই ?

লড়াই পন্ডিতের সাথে সিপাই
নাকি
লড়াই জীবনের সাথে সৈনিক ?
নাকি
লড়াই জীবনের সাথে মৃত্যুর ?

জীবনে মাটি চেটে দেখিনি,  তার জীবনে দেশপ্রেম হল মিছে
জীবনের স্বাদ ই আলাদা, বুঝবেন হে মশাই ?
কে বোঝে মেরা দেশ মহান
বোঝা মুস্কিল রাষ্ট্র-স্বাধীনতা
কে বোঝে হিন্দু না মুসলিম ? ওরা তো সর্বহারা অভিজাত ?

এই সব ছারপোকা রাজনীতি
লুটে বাড়ে রক্তবীজের ঝাড়
আমাদের দেশপ্রেমী বিধাতা,  বটবৃক্ষ,  তরুলতা
জনতা খাবি খায় ।

চিমনি র মুখে সাইরেন শংখ
মিছিলে লুকায় সমাজতন্ত্রী মুখ
লাগা না, চিমনি র মুখে হ্যারিসন তালা ...
শালারা কজনই বা হবে ? 
কি জানি হাতে গোনা আঙ্গুল
শালারা তবুও কি ভাবে
আঙ্গুলে নাচায় ?

আমাদের মুখে কি আর ঘি সক্কর ? ভাগ না,  পায়ুর ভ্রু ।
মনে হয় কানে আঙ্গুল দি, আকাশের গায়ে ঠেকিয়ে পা
মনে হয় মুখে ঠেসে ধরে, দু ফোটা, চিরিক চিরিক দি ।

নয় সবাই হানাদার শত্রু, বড় প্রেম দেশপ্রেমে বলিদান
বড়দান পেটে পড়লে দানা
উপপাদ্যের মুল ।

ভাগে কি কম পড়ে যায় কার ,
বুকের উপরে ছাপানো মানচিত্র, এক নদি রক্ত বয়ে যায়
ভাগীরথী ভোগ্য সবার ই , কারা যে রেখা টেনে যায় ?

বেড়ে চলে যমের মত ভয়, আমার যে প্রতি ভোরে খিদে পায়
বেড়ে ভাত খাওয়ার শক্তিও নাই
আমাদের বাড়া ভাতে ছাই ।

পাহারা কাকে ? বা কার , কেন
পা হারায় দুপক্ষেরি ফৌজ
পাহাড়ের খাদে খাদে জমে, জীবাশ্ম ইতিহাস ।
শহীদের রক্ত জমে জমে
শহীদ মিনার ।

আর বলতে পারিনা ভাই
মাথার চুল ছিড়েছি খুব, আমার এই ঘিলুটাও পচে সার,
স্নায়ুতে অচেনা ভাইরাস
মাথাটার সেকেন্ডারী স্লেভে
সিডি আটকে যায় ।

কি হবে যুদ্ধে, করব না মার্চ
পরোয়াও করিনা কারো, কিছু আর
রাস্ট্র মুখে পুরীষ এক রাশ...

ভাগাড়ে থাক না পড়ে পরমবীর-চক্র টি 
থেকে থেকে ক্রিমেশন প্যারেডে
শহীদ হে অমর ?

কুড়ি বছর গারদ সময় কাল
কুড়ি এই হয়ে এল শেষ
কুড়িয়ে নেবে ইতিহাস
পসথুমাস কর্পোরাল ।

Tuesday, December 24, 2013

রাইফেল

রাইফেল

সালামী সাজে স্যালুট করলে
দিগ্বীজয়ী রাইফেল ও আকাশ দেখতে পায়,
কারাকোরামের গায়ে
শরীর এলিয়ে দিয়ে ঝুঁকে থাকে স্থির
নত মস্তক পামীর মালভুমি ।

গর্দনটা নিচে ঝুঁকিয়ে দেখলে মাটি দেখা যায়
যেখানে ঝরে পড়ছে প্রতিদিন
পরাজিত ঘাম ।

আমারও একটা শরীর আছে
এলিয়ে দিলে প্রেমিকার তুষার বুকে
সাদা চাদর বিছিয়ে দিনের শেষ আলোয়
ঘুমের দেশ অপেক্ষা করে
বরফ বিছানায় ।

ওখানে কিছু স্নোবুট
ওখানে আরো কিছু সৈনিকের পায়ের শব্দ হঠাৎ

স্যালুট !  

রক্তরঙের এক পতাকাকে সামনে রেখে 
মার্চ করে যাওয়া র‍্যাংক ও ফাইল
লেফট টার্ণ নিয়ে এসে দাঁড়ায়

তিন বার গুলিছোড়ার আওয়াজ হয়
উপত্যকা প্রতিধ্বনিত করে কারাকোরাম
সাক্ষী হয়ে থাকে ।

০৫ ডিসেম্বর ২০১৩ 
মহাবীর এনক্লেভ, নতুন দিল্লি