Wednesday, March 20, 2013

বাজী

বাজী


তোমাদের পায়ে সঞ্চিত যত সীমানার অক্ষুনতা,
বরফ সিক্ত পাহাড়ের বাঁকে জমে আছে সেই কথা
না পাওয়ার ব্যথা রাত নীরবতা বুক বেয়ে ওঠা হাই
তাবুর ভিতরে মদিরার শিখায় জ্বলে পুড়ে হয় ছাই,
ফৌজির কানে গানে গানে কোন ভ্রমরা গিয়েছে কয়ে
বারুদের ভাষা মিঠা লাগে বড়, ভালোবাসা যায় হয়ে
হিমেল আঁধারে শতদ্রুর বুকে মুছে ফেলে গ্লানি ক্লেশ
রাত্রির চোখে শিশির বুলিয়ে ঘুমিয়েছে সারা দেশ ।
কার বা রাজ , কার কেনা মাটি,  কোন সীমানার দাগ
কার পতাকা , কার কিযে রং, কেবা করে দেশ ভাগ
পতাকা তবুও লুটতে দেবোনা জীবনকে বাজী রেখে

মৃত্যুর কোন রং আছে কি শুধাবো মৃত্যু ডেকে ।


সতওয়ারী, জম্মু
১২-০১-১৯৯৮

Friday, January 18, 2013

ভিসুভিয়াস


ভিসুভিয়াস


মৃত্যু লগ্নে জন্ম এলো শরীরে
নতুনের স্বাদ
অগ্নুছ্বাস ,


ভিসুভিয়াস ভিসুভিয়াস ।


প্রস্তর লৌহ, তাম্র, কার্বন
বৈশাখ জ্যোষ্ট আসাঢ় শ্রাবন
গর্বিত মাতা, জলন্ত জঠর
রাজা আয়িদিপায়ুসের পার্থিব ইতিহাস
ভিসুভিয়াস ভিসুভিয়াস


হিন্দু আত, মুসলমান পাত
গঙ্গা ভাঙ্গছে জলপ্রপাত
উত্তরে-ই প্রশ্ন
প্রশ্ন-ই বিশ্বাস
ভিসুভিয়াস ভিসুভিয়াস ।


১৯ আগস্ট, ২০১২
রাউন্ড রক, টেক্সাস, আমেরিকা

মাতৃভূমি

মাতৃভুমি


এভাবেই কিছুদিন যাক
সিপাহির শরীরে ধুলো জমে জমে ভরাট হোক
বুলেটের ঘা
এভাবেই কিছুদিন যাক
যতদিন না , কাদাখোঁচা পাখি এসে ঠুকরে দিয়ে গা
ঘোষণা করে
শাওন এসেছে রে , বাদল এসেছে
বর্ষা আসুক এবার যুদ্ধ ক্ষেত্র জুড়ে
নীল আরো নীল আনবিক
আকাশের আরো গভীরে বোমারুর গর্জন
মাতৃভুমি শুয়ে আছে পোয়াতি হয়ে
মৃত্যু  - আরো ভয়ানক মৃত্যুর

জন্ম দেবে বলে ।

১৪ মে, ২০১২

রাউন্ড রক, টেক্সাস,  আমেরিকা

Monday, December 24, 2012

অ্যাটম বোম

অ্যাটম বোম

এক ঝাঁক তারা আর এক সন্ধ্যার অপেক্ষা
এক রাত ফুলশয্যার
লাভা উগরে উগরে ভর্তি করে দেব অ্যারোড্রোমের জরায়ু
ঘুম যায় ঐ চাঁদ মেঘ - পরীদের সাথে
কার বাঁশ কার হাতে
ধেনু চরে চেনাবের গিরিখাতে ।

একশো চুয়াল্লিশ ধারা এখানে                 
নিষিদ্ধ প্রমোদ ভ্রমণ
ভালো আছো কুমারী কুসুম মাতৃ জঠরে
ওখানেই ঘুমাও তুমি রক্তিম নক্ষত্র
পাছায় বারুদ ঘসে আমরা যারা বেরিয়েছি
কাছা বেঁধে গামছা, স্কন্ধে জাতীয় পতাকা
লেফট রাইট লেফট রাইট
সামাল সামাল রব উঠেছে তোর মনে সই, মোর মনে সই
কার কাঠি কার হাতে
দামামা বেজে চলেছে ঝিলাম উপত্যকায় ।

পরম শীৎকারে পৌঁছাবে উচ্চতম অর্গাজমে
পল্লবিত হবে প্রেমের মুকুল
যারা মার্চ করতে করতে দেখছিল এক চোখ ঘুমিয়ে নেবার
মধ্যাহ্নের আগেই শীতের কুয়াশা
বয়ে নিয়ে এল
তাঁদের সূর্যাস্তের প্যায়গাম ,
তেপান্তরের মাঠের উপর তখন
রক্তের ছিটায় আগাম গোধুলি
ঊর্ধগগণে বেজে চলেছে সহস্র মাদল, চল চল চল...
কার চাবুক কার হাতে
মশা মাছি মরে, বিতস্তার খানা খন্দে ।

আর থাকতে পারিনা
স্নেহ অতি বিষম বস্তু
কর্নেল স্পেশালে ফুটছে দেশপ্রেম
একচুল দূরে,  এক ইশারার ব্যবধানে...
বনমালীগো তুমি পরজনমে হইও রাধা

ঘোমটায় মুখ ঢেকে এক ঝাঁক তারাদের মাঝে
ঐ আসে পূর্ণ যৌবনা সন্ধ্যা
নিউকে নিউকে ফাটিয়ে দেব জরায়ু
লাভা উগরে উগরে বন্যা বহিয়ে দেব
তোমার নাভীতলদেশ, মহাদেশ
গর্ভবতী করে দেব তোমায় পৃথিবী
অক্ষৌহিনী মৃত সন্তানে ।

২ জুন, ১৯৯৯
এয়ারম্যান বিলেট

নং ৩ উইয়িং, পালাম

আমার কিছুই না

আমার কিছুই না

রাখ না চোখ দুটো খুলে
প্যান্টের পকেটে
যদি সামনে এসে দাঁড়ায় প্রেমিকার মুখ

লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে
বরফের খাঁজে বসে সুইট সিক্সটি নাইন
বাদামী ক্লিভেজের দিকে পিচকারি থেকে ছুটে আসে,
আগুনের গোলার পাহাড়ী রসায়ন
চুড়ান্ত পর্বের আদিম খেলা

“চার্জ......”
এই,  কে আসে ধেয়ে ?
দোস্ত ইয়া দুসমন ?
পাসওয়ার্ড বল , নয় ভাড়মে যাও ।

যদি দোস্ত,  তবে ফুলের রঙে রাঙিয়ে দেব তোর কানের দুল
যদি দুসমন,  কামানের গোলায় উড়িয়ে দেব লাল দুপাট্টা মলমল কা
আমি সিন্ধুর স্রোতের স্বচ্ছ ধারায় দেখতে পাই
তোমার জন্যই প্রেম
তোমার জন্যই ঘৃণা
আমার কিছুই না,  আমার কিছুই না

তবু,
সিরো-স্ট্রাটাসের আড়ালে আবডালে
নক্ষত্রেরও বে-জন্ম হয়
ছুটে যাওয়া গরম সীসার গতিবেগে
কি জানি কি আছে সৌন্দর্য
তারা প্রেম করে সম্পূর্ণ হয়
মাতৃভূমির মাটিতে ।

গঙ্গার বিস্তীর্ণ দুপারে অসংখ্য নক্ষত্রের ভিড়ে
ঘাটের কাছে যে সব বাষ্পসৈনিকেরা
খুঁজে চলেছে কবিতার ভাষা
কিউমুলো-নিম্বাসে ভিজিয়ে নিচ্ছে চোখের পাতা
বৃষ্টি নেমেছে আজ রণক্ষেত্র জুড়ে ,  জুড়িয়ে যায় চোখঃ   
আহাঃ , কী হৃদয় জুড়ানো বৃষ্টির আমেজ !       
শত শত বছর জুড়ে জেগে থাকা সেই সব পিপাসিত চোখে
আচানক যদি ভেঙ্গে আসে
অ্যাঁরোম্যাটিক আধো তরল ঘুম...

রাখ না চোখদুটো খুলে
উর্দির পকেটে
যদি সামনে এসে দাঁড়ায় বিবস্ত্র প্রেমিকার শরীর।

১০ এপ্রিল , ১৯৯৭
সতওয়ারী, জম্মু