Friday, September 20, 2013

দম


দম


অ্যাংকলেট বুট্ পায়ে জমেছিল এতদিন যতটা মার্চ
হাঁটছি আর হাঁটছি,
হয়না শেষ তবু লেফট রাইট লেফট
পরিবর্তনের হাওয়া নাকি আনবে স্বাধীনতা,
হয়ত আনবে একদিন
আমাদের তবু
ঘড়ির কাঁটার মত
শুধু ঘুরে যাওয়া যান্ত্রিক
দুপায়ে জমানো শেষ হয়ে গেলে মার্চ
আবার ভরে দেওয়া হবে ‘দম’...

তাকাই সম্মুখে বিস্তর প্রান্তর
সময়ের সমতলে দ্বিমাত্রিক আমাদের প্রপিতামহগণ
কালের  ঊর্ধে ওরা ওঠায়নি মাথা
আরো দূরে , বহুদূরে মহাকাশ পারে
ওদের সহোদর বুঝি এমনি আগ্নেয়গিরি
ধোঁয়া ভরা আগুনে লাভা উগরায়...
আল্পসের পাদদেশে জীউসের সিংহদ্বার
ম্যাসিডোনিয়ার রণভূমি পার হয়ে
উঠে আসে আলেকজ্যান্ডার
উচু শির, ঋজু দেহ, লৌহকঠিন পদযুগলে
ধেয়ে আসে ওরা লেফট রাইট লেফট
র‍্যাংক ও ফাইলে ।

শতদ্রু দাঁড়িয়ে দেখে, দুচোখ ডুবিয়ে দেখে সিন্ধু খরস্রোতা
রোদ-ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে, ওদের ক্লান্ত দুপায়ের হাঁটা
করেছে মার্চ ওরা ভরা বর্ষার রণভূমি জুড়ে
পৃথিবীর জল কাদা লেগেছে শরীরে

ওদের দু চোখে ঘুমিয়ে নেবার স্বপ্নে
সামাজিক জীবন ডুবে গেছে কখনো ইতিহাস ঘুমে
ঘুম থেকে জেগে কখনো
পানিপথ সেজেছে আবার কুচকাওয়াজে,
বেজেছে সহস্র মাদল
সারিসারি অশ্বারোহী আধুনিক রণসজ্জায়
আধুনিক আরো, অত্যাধুনিক, আর্টিলারী ব্যাটেলিয়ন,
সমরসজ্জায় সৈন্যবাহিনী
তরাইন ধুয়ে বর্ষা এনেছে দুজোড়া বিশ্বযুদ্ধের কাহিনী
যুদ্ধ দেখেছে যুদ্ধ প্যারেড, যুদ্ধ পারমানবিক
মানুষ দেখেছে প্রাণীদের ছোটা, প্রাণপণে চারিদিক
দিকবিদিক শূন্য করে হতভম্ভ হাহাকার
সৃষ্টির বুকে আগুন জ্বালিয়ে পদাতিক অহংকার
হাঁটছি তবু পৃথিবীর বুকে,
আমাদের মহাশূন্যে হাঁটা
সামরিক জীবন সামাজিক মার্চে মিলিয়েছে দুইপা ।

চন্দ্রপৃষ্ঠে হাঁটছি আমরা , পায়ে জমে আছে পথ
প্রতি সাম্রাজ্য দিবারাত্রি প্রতি শতাব্দী গড়ে তুলি জনপদ
আঁধারের বুকে প্রাণিদের সাথে প্রাণিদের সংগ্রাম
প্রতিটা প্রজাতি যোগ্যতমের উদবর্তনে হাঁটলাম
প্রতিটা শতাব্দী তবুও খুঁজে যায়, মানুষের বিবর্তন
জীবনচক্রের  সামাজিক জীবন , মানুষের স্বাধীনতার,
একদিন শতাব্দীও শেষ হয়ে যায়,  একদিন ডুবে যায় সে  নক্ষত্রও ।
হয়ত একদিন
স্বাধীনতা ফিরে পাবে সে দেশরেখা
নক্ষত্রের মৃত্যুর সাথে হয়ত থেমে যাবে মার্চও একদিন
পথ শেষ হয়ে যাবে কোন এক ব্লাকহোলের প্রান্তে ।

আর ব্লাকহোলও হিম হয়ে যায়...তারপর ?

হয়ত বা আবার কোন দিন
উল্টে হিমের চাদর
নতুন ব্রম্মান্ড ফের জ্বালাবে নব উষা ভোর
নতুন সময় স্রোত, নতুন উদ্দমে এক নতুন জীবন পথ
নতুন টাইম, নতুন এক ডেট
ঘড়ির কাঁটা আবার শব্দ করে চলবে
লেফট রাইট লেফট, লেফট রাইট লেফট ।

৬ আগস্ট, ২০১৩

মহাবীর এনক্লেভ,  নতুন দিল্লি

Sunday, September 8, 2013

শারদীয়া দূর্গাপূজা ২০১৩


শারদীয়া দূর্গাপূজা



ধুপের ধোঁয়ায় বারুদের গন্ধ
পুজোর প্যান্ডেল সেজেছে রাংতার সজ্জায়
সেঁদিয়ে উঠেছে বিলের মাঠ, আমন চাষের মাটি
বাতাস মজেছে শিউলির সুগন্ধ শিহরণে...
ঢ্যাম কুড় কুড় , ঢ্যাম কুড় কুড়
ঢাকে পড়ল কাঠি ।


দুঃখ মোচনে শান্তির বার্তা
অসুর দমনে শঙ্খ হাতে, মায়ের আগমন।
বল দুর্গা মাই কি,
বল দুর্গা মাই কি


দুর্গা দুর্গতিনাশিনী, নাকি দুর্গেশনন্দিনী...
দুর্গাকে কাছে পায় কোন সন্তানে ?
সিন্ধুর তরল রক্ত প্রবাহ যখন
ঘাটের পাড়ে ধাক্কা লেগে ঢেউ কাদা কাদা ,
লুটিয়ে পড়ছে পায়ে কাশ বন সাদা সাদা,
তখন
সন্তানের স্কন্ধ থেকে, টেনে ছিঁড়ে
কেটে নিয়ে গেছে মাথা একে একে পাঁচ




সীমানার ওপারে বিপক্ষ সেনা,
এক পায়ে দাঁড়িয়ে তাল গাছ, সারিসারি সেনা
চন্ডী-মন্ত্রে বাঁধা হাত,
সাদা মেঘে মুদেছে চোখ শরতের বিকেল,


একটাও গুলি তাই ফায়ার হল না
একটাও দেহ ওদের শহীদ হল না ।


যারা সীমানার অধিকার নিয়ে
মর্ত বিজয়ে, বেরিয়েছে মহিষাসুর
ওরা কেটে নিয়ে গেল কার্তিকের ফসল
ধোঁয়াটে গন্ধে শুকায় সদ্য জাগা মাঠ
ডুকরে কাঁদছে রাত,
আঁধারের কাঁধে রেখে মাথা
শীতের কুয়াশা জমেছে, চোখের পাতায়, ভ্রুর কিনারায়
ঐ কে আসে রাঙা পায়ে, প্রশান্ত মুখ, নিটোল অবয়ব
চুলে তার ধুপের গন্ধ,
বার বার প্রতিবার, প্রতিবর্ষ ঘুরে
আসা যাওয়া তার,
কেউ বলে মা আসে, অসুরমর্দিনী !
কেন , কেন , কেন আসে সে ?
সন্তানেরে এগিয়ে দিয়ে সম্মুখ সমরে
কোন অসুর বধে হবে অকাল-বোধন ?


ধূপের ধোঁয়ায় বারুদের গন্ধ
পুজোর প্যান্ডেল সেজেছে রাংতার সজ্জায়
সাঁঝের আকাশে উঠেছে অনেক তারা
বারুদের ধোঁয়ায় ভালো ঠাহর করা যায় না
কোন তারাটি খসে গেল
কোন তারাটির বউ মরা
কোন তারাটির বর মরা
মরছে প্রতিপদে সংগ্রামী সৈনিক
মরছে প্রতিবাদী সন্তান দৈনিক
বার বার প্রতিবার, আসছে বছর
বল দুর্গা মাই কি গ্রাম ও শহর
শারদীয়ার বার্তা নিয়ে অসুর দমনে
তবু আসে মাতা কেন মর্তভ্রমণে ?


২৫ আগস্ট, ২০১৩


মহাবীর এনক্লেভ, নতুন দিল্লি

Saturday, August 10, 2013

তাম্বুলা

তাম্বুলা

প্রচন্ড প্রতাপে প্রথম প্রত্যুষে
আঁখি মেলে হঠাৎ মুদে গেল কিশলয়
টাং উঠাকে মারা
ওয়ান অ্যান্ড এইট
আঠারা-র বলিদান ।

ফাইনাল ক্লিয়ারেন্স পেয়েছে ফ্লাইট লেফটানেন্ট রায়
তাম্বুলার কোর্টে তার অপূর্ণ সংসার
রোজি কেঁদে হাহাকার

হাই টেনশনের তার এড়িয়ে
রানওয়ের টাচডাউন থেকে ঠিক কয়েক ফুট দূরত্বে
ফ্লাইট লেফটানেন্ট রায় অ্যান্ড খতরা
ওয়ান অ্যান্ড সেভেন , সতরা
তীরে এসে ডুবলো আমার তরী-
কাঁদ রোজি তুই কাঁদ
কাঁদ মাধবী তুই কাঁদ
কাঁদ সুমনা তুই কাঁদ ।

আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে তাম্বুলা

মৃতপ্রায় যমুনার শ্বাসরোধী কান্না
নজর কমে আসে চোখে বৃদ্ধা দিবসের
যমিনীর তিমির ঠেলে প্রত্যুষের প্রতাপ
গ্রীষ্মের প্রথম দিবসে
এ কি এনে দিলে 'এ এন থার্টি টু' ?
এ কোন প্রহেলিকা , কোন পোস্টকার্ড
এ কোন ফুল ? নাকি ভুলের মাশুল ?

কারে তুমি বয়ে এনে দিলে সোনালী চিল ?
দুমড়ে মেরুদণ্ড, ঠাণ্ডা শরীর
ডান্ডা উইথ আন্ডা - দশ দিক জুড়ে
এ কিসের কলরোল ?
বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে ?
না চমৎকার নয় আজ,
ভাঁড়ার শূন্য করা রক্তনৈবেদ্য
সাজানো পূজার থালায়
টু অ্যান্ড ওয়ান - একুশে আইনে
তখন...
মর্গে হৃদয় জুড়াতে
বাঁধা পড়েছিল ফ্লাইট লেফটানেন্ট রায়
'ডি এন এ' র লাইনে ।

'ডি এন এ' বা  'আর এন এ' তে রেখে পুর্বপুরুষের ছাপ
সংগ্রামী সময়কে দিল রক্ত অভিশাপ
তরাইন হলদিঘাটি
রোজীদের কান্নার রঙে ভিজে গেছে আজ
তাম্বুলার আকাশ জীবন মাটি ।

৬ আগস্ট, ১৯৯৯
এয়ারম্যান বিলেট
নং ৩ উইয়িং, পালাম

Monday, June 24, 2013

Soldiers


When the sky painted with dark, the evening brushes up the twilight
The time stops here, the memories of day crawls on...
What can we do? We battle ! battle through the nights
So that, you can open your eyes with a colorful dawn.

I don’t know when and how ,  the date we started to fight
Every day of life, every moment, summer or winter
With caps on, boots on the feet, left right, left right
Every day, month, Jan or Feb, we march all the year.


Gifted by mighty god, I had  to fight over odd weather
And I thought I had a sky, free with air, a land off-course
The beautiful world around me, suddenly,  spat  with war
I found myself wrapped in uniform, holding guns and made a force.

The fights? who is a knight, who does win and who is the king?
Which religion is best? who owns the land? who owns the country?
I don’t have choice to have one? The war win a crown for your sibling
Where I am just an infantry soldiers to protect your boundary.




ফৌজি গান


যখন আকাশে মেঘের ফাকে                 আঁধফালি চাদ বারুদে ঢাকে
বন্দুক গুজে কাজের ফাকে                    কি আর করি তখন ?
(স্বপ্ন দেখা মানা), যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ           যুদ্ধ করে মন।

যুদ্ধ কাদের দেশের নাকি                      দেশবেড়া জাল সন্দেশে ফাকি
লাভের গুড় তো চুরি করে খায়               দেশপ্রেমী নেতা পিঁপড়ে পাখি

প্রেমের পরশ ? বুঝি হাতে চাঁদ               বেকায়দায় পড়ে করে আর্তনাদ
ছেড়ে দাও বাবা কেঁদে বেচে যাক             বেচারী বাছাধন।

যখন তোমার তাহার সন্ধি                    বিজয় তোমার আমি বন্দি
অন্ধকারার বন্ধ ঘরে                           কি আর করি তখন ?
যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ                               যুদ্ধ করে মন।

যুদ্ধ নয় গো প্রেম চাই মনে                   হাল্কা দিশারী চোখের এক কোনে
ঠোট ছুতে চাই ওষ্ট প্রিয়ার                    জোৎস্না ভেজা বরফের বনে

পুড়ছে মদিরা পেট জলে ছাই                 ক্ষুধার জ্বালায় ভাই মারে ভাই
বেকার আগুনে পুড়ছে সিপাহী                জলন্ত ব্যাটেলিয়ন।

সিয়াচেন যখন সামরিক ঘাটি                 মুকুট তোমার আমার মাটি
বাম ডান বাম দিনরাত হাটি                  কি আর করি তখন ?
যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ                               যুদ্ধ করে মন।

জীবন ঢেলেছে ভাড়মে মরণ                  হিতৈষীর বুকে রক্ত ক্ষরণ
গীটারের রণণ মিলেছে রণে                   তোমার কোরাসে আমার চরণ

গলা বুজে আসে বন্ধ হয় ভাষা                সুর উবে জাগে কন্ঠে পিপাষা
দুচোখে শুকায় স্বপ্ন আর আশা                সুকায়  সঞ্জীবন

সংগীত যখন থমকে দাঁড়ায়                   সুর হীন সুরা দুই হাত বাড়ায়
মুখে নিয়ে কার্তুজ ম্যাসিন গান               কি আর করি তখন ?

যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ                               যুদ্ধ করে মন।


Wednesday, June 19, 2013

ভূস্বর্গ কাশ্মীর


ভূস্বর্গ কাশ্মীর

ক্যা রূপ নিখারা হ্যায়......
অস্তরাগের সৌন্দর্যে ফেটে পড়েছে শৈলশ্রেণী
রাগ আর রাগিণীতে ধ্বনিত উপত্যকা ।

গোধুলির রক্তিম আকাশ ঘুমিয়েছে
অল্টোকিউমুলাসে ভেজা সৈনিকের চোখের পাতায়

বুদ্ধ,  বিকাশ যদি একবার এসে দেখে যেত!
মাটি মায়ের দিব্যি, এমন সৌন্দর্য চিল্কায় কেন
পৃথিবীর কোথাও আমি দেখিনি
মাইরি বলছি...

রৌদ্রে সারাদিন উড়ে উড়ে মাতাল বাতাস
শ্রান্ত হয়ে থমকে এসে দাঁড়িয়েছে কোকের-নাগের ঝুটিতে

স্বর্গ-রশ্মি চুঁইয়ে চুঁইয়ে ঢুকে যাচ্ছে সিয়াচেনের নসঃনালিকায়
চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন
পুর্ণেন্দু, শঙ্খ, নিদেন পক্ষে জয় যদি একবার এসে দেখে যেতে পারত

নতুন মলাটে জীর্ন কাহিনী
ব্রান্ডেড বোতলে পুরানো ওয়াইন
টুরটুক , ড্রাস , কার্গিল, উরির উপত্যকায়
বরফের চাংড়ায় প্রতিবিম্বিত হয়ে আসছে
কামানের তোপধ্বনি !

ও কালো বউ , কার জন্য তোর শংখধ্বনি ?
কার মঙ্গলের এই কামন ? রোমান্টিকতা ?
তোর স্বামী বুঝি যুদ্ধ শেষে ফেরেনি ঘরে ?
তোর সাঁঝের বাতির রাঙা আলোক
কেমেন যেন হলুদ হয়ে আসছে...।

আঃ হাঃ হোয়াট এ বিউটি!!!

তোমরা সবাই যদি এসে একবার দেখে যেতে পারতে


সতওয়ারী, জম্মু

১২-০৪-১৯৯৭